চরিত্র ও কথাবার্তা সম্পর্কে বাইবেলের পদ
ঈশ্বরকে জানার ফল হল এক রূপান্তরিত চরিত্র — প্রেম, নম্রতা, সততা, এবং অনুগ্রহদায়ক বাক্য। শাস্ত্র আমরা কীভাবে অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার করি ও কীভাবে আমাদের জিহ্বা ব্যবহার করি, সেদিকে গভীর মনোযোগ দেয়। এই পদগুলি ভিতর থেকে বাইরে পর্যন্ত ঈশ্বর আপনাকে যে ধরনের মানুষ গড়ে তুলছেন, তেমন করেই গঠন করে।
প্রেম ও করুণা
ভালবাসা চিরসহিষ্ণু, ভালবাসা দয়ালু, ঈর্ষা করে না, ভালবাসা আত্মশ্লাঘা করে না, গর্ব করে না, খারাপ ব্যবহার করে না, স্বার্থপরতা করে না, রেগে যায় না, কারোর ভুল ধরে না, ভালবাসা অধার্মিকতায় আনন্দ করে না, কিন্তু সত্যে আনন্দ করে; সবই বহন করে, সবই বিশ্বাস করে, সবই আশা করে, সবই ধৈর্য্য ধরে সহ্য করে।
এক নতুন আদেশ আমি তোমাদের দিচ্ছি, যে তোমরা একে অন্যকে প্রেম করবে; আমি যেমন তোমাদের প্রেম করেছি, সুতরাং তোমরাও একে অন্যকে প্রেম করবে।
তোমরা একে অপরে মধুর স্বভাব ও কমল মনের হও, একে অপরকে ক্ষমা কর, যেমন ঈশ্বরও খ্রীষ্টে তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন।
তিনি তাকে বললেন, “তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর প্রভুকে ভালবাসবে,” এটা মহান ও প্রথম আদেশ। আর দ্বিতীয় আদেশটি হলো, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে।”
কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা নিজের নিজের শত্রুদেরকে ভালবেস এবং যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের জন্য প্রার্থনা কর;
প্রত্যেকে নিজের মনে যে রকম পরিকল্পনা করেছে সেইভাবে দান করুক মনের দুঃখে অথবা দিতে হবে বলে দান না দিক কারণ খুশী মনে যে দান করে ঈশ্বর তাকে ভালবাসেন।
প্রথমে তোমরা একজন অন্য জনকে মন দিয়ে ভালবাসো, কারণ “ভালবাসা পাপকে প্রকাশ করে না।”
ভালবাসা কখনও শেষ হয় না। কিন্তু যদি ভাববাণী থাকে, তার লোপ হবে; যদি বিশেষ বিশেষ ভাষা থাকে, সে সব শেষ হবে; যদি জ্ঞান থাকে, তার লোপ হবে।
আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমরা যেন শুধু কথায় অথবা জিভে নয় কিন্তু কাজে এবং সত্যিকারে ভালবাসি।
দ্বিতীয়টি এই, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে” এই দুইটি আদেশের থেকে বড় আর কোন আদেশ নেই।
আর প্রেমে চল, যেমন খ্রীষ্টও তোমাদেরকে প্রেম করলেন এবং আমাদের জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে, সৌরভের জন্য, উপহার ও বলিরূপে নিজেকে বলিদান দিলেন।
এই সব জিনিস গুলোকে ভালবাসা দিয়ে সাজাও, ভালবাসাই সব কিছুকে একসঙ্গে বাঁধতে পারে।
নম্রতা ও দাসত্ব
প্রতিযোগিতার কিংবা স্বার্থপরতার বশে কিছুই কর না, কিন্তু শান্তভাবে প্রত্যেক জন নিজের থেকে অন্যকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে কর;
কারণ মনুষ্যপুত্র জগতে সেবা পেতে আসেনি, কিন্তু অপরের সেবা করতে এসেছে এবং মানুষের জন্য নিজের জীবন মুক্তির মূল্য হিসাবে দিতে এসেছেন।
কারণ, ভাইয়েরা, তোমাদের স্বাধীনতার জন্য ডাকা হয়েছে, কিন্তু দেখো, সেই স্বাধীনতাকে দেহের জন্য সুযোগ করো না, বরং প্রেমের মাধ্যমে একজন অন্যের দাস হও।
এবং প্রত্যেক জন নিজের বিষয়ে না, কিন্তু পরের বিষয়েও লক্ষ্য রাখ।
তোমাদের মধ্যে তেমন হবে না, কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ মহান হতে চায়, সে তোমাদের মধ্য সেবক হবে,
“তারপর যদি আমি প্রভু এবং গুরু হয়ে তোমাদের পা ধুইয়ে দিই, তবে তোমরাও একে অন্যের পা ধুইয়ে দিতে বাধ্য।
তাই তোমরা ঈশ্বরের শক্তিশালী হাতের নীচে নত হও, যেন তিনি উপযুক্ত দিনের তোমাদেরকে উন্নত করেন,
একইভাবে, যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশীভূত হও, আর তোমরা সবাই একজন অন্যের সেবা করার জন্য নম্রতার সঙ্গে কোমর বাঁধ, কারণ “ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদেরকে অনুগ্রহ দান করেন।”
সততা ও শুচিতা
মিথ্যাবাদী ঠোঁট সদাপ্রভু ঘৃণা করেন; কিন্তু যারা বিশ্বস্ততায় চলে, তারা তাঁর আনন্দের পাত্র।
তোমরা ব্যভিচার থেকে দূরে থাক। মানুষ অন্য যে কোন পাপ করে, তা তার দেহের বাইরে; কিন্তু যে ব্যভিচার করে, সে তার দেহের বিরুদ্ধে পাপ করে।
কারণ সদাপ্রভুু ঈশ্বর আমাদের সূর্য্য ও ঢাল; সদাপ্রভুু অনুগ্রহ ও প্রতাপ দেন; যারা সিদ্ধতায় চলে, তাদের মঙ্গল করতে অস্বীকার করবেন না।
কে সদাপ্রভুুর সীয়োন পর্বতে ওঠা এবং মন্দিরে প্রবেশের উদ্দেশ্য ছিল সদাপ্রভুর উপাসনা করা পর্বতে উঠবে? কে তাঁর পবিত্র স্থানের মধ্যে প্রবেশ করবে? যাদের পরিষ্কার হাত এবং শুদ্ধ হৃদয় আছে; যারা মিথ্যা বলার জন্য নিজের প্রাণকে উঁচুতে তোলে না এবং যারা প্রতারণায় শপথ করে না।
যেন তোমরা অনিন্দনীয় ও এই দিনের র সেই অসরল ও চরিত্রহীন প্রজন্মের মধ্যে ঈশ্বরের নিষ্কলঙ্ক সন্তান হও, যাদের মধ্যে তোমরা জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রকাশ পাচ্ছো,
কিন্তু তোমাদের কথা হ্যাঁ, হ্যাঁ, না, না, হোক; এর বেশি যা, তা শয়তান থেকে জন্মায়।
তাই এটা অতি অবশ্যই যে, পালককে কেউ যেন দোষ দিতে না পারে, তিনি এক স্ত্রীর স্বামী হবেন, সচেতন, আত্মসংযমী, সংযত, অতিথিসেবা করতে ভালবাসেন এবং শিক্ষাদানে পারদর্শী হন;
কিন্তু সেই আদেশের উদ্দেশ্যে হল ভালবাসা, যা শুচি হৃদয়, সৎ বিবেক ও প্রকৃত বিশ্বাস থেকে উৎপন্ন;
অতএব তোমরা খাবার খাও, কি পান কর, কি যা কিছু কর, সবই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর।
জিহ্বা ও আমাদের কথা
সেইভাবে জিভও ছোটো অঙ্গ বটে, কিন্তু বড় অহঙ্কারের কথা বলে। দেখ, কেমন ছোট আগুনের ফুলকি কেমন বৃহৎ বন জ্বালিয়ে দেয়!
সব রকম বাজে কথা, রোষ, রাগ, ঝগড়া, ঈশ্বরনিন্দা এবং সব রকম হিংসা তোমাদের মধ্যে থেকে দুর হোক।
তোমাদের মুখ থেকে কোন রকম বাজে কথা বের না হোক, কিন্তু দরকারে গেঁথে তোলার জন্য ভালো কথা বের হোক, যেন যারা শোনে, তাদেরকে আশীর্বাদ দান করা হয়।
বরং আমরা প্রেমে সত্য বলি এবং সব দিনের তাঁর মধ্যে বেড়ে উঠি যিনি খ্রীষ্টের মস্তক,
যারা তোমাকে অত্যাচার করে, তাদের আশীর্বাদ কর; আশীর্বাদ কর অভিশাপ দিও না।
তোমরা সবদিন করুণাবিষ্ট হয়ে কথা বল। লবণের মত স্বাদযুক্ত হও এবং প্রত্যেক জনকে কিভাবে উত্তর দেবে তা জানো।
হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা এটা জানো। কিন্তু তোমাদের প্রত্যেকে অবশ্যই কথা শোনার জন্য প্রস্তুত থাক, কম কথা বলো, খুব তাড়াতাড়ি রেগে যেও না,
যে কেউ নিজের মুখ ও জিহ্বা রক্ষা করে, সে বিপদ থেকে নিজের প্রাণ রক্ষা করে।